পুরাতন কম্পিউটার কেনার আগে যে বিষয় গুলো খেয়াল করবেন

পুরাতন কম্পিউটার কেনার আগে যে বিষয় গুলো খেয়াল করবেন

Information Science Technology

গণনাযন্ত্র বা কম্পিউটার (ইংরেজি: Computer)

– হল এমন একটি যন্ত্র যা সুনির্দিষ্ট নির্দেশ অনুসরণ করে গাণিতিক গণনা সংক্রান্ত কাজ খুব দ্রুত করতে পারে।

প্রাগৈতিহাসিক যুগে গণনার যন্ত্র উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রচেষ্টাকে কম্পিউটার ইতিহাস হিসেবে ধরা হয়। প্রাচীন কালে মানুষ একসময় সংখ্যা বুঝানোর জন্য ঝিনুক, নুড়ি, দড়ির গিট ইত্যাদি ব্যবহার করত। পরবর্তীতে গণনার কাজে বিভিন্ন কৌশল ও যন্ত্র ব্যবহার করে থাকলেও অ্যাবাকাস (Abacus) নামক একটি প্রাচীন গণনা যন্ত্রকেই কম্পিউটারের ইতিহাসে প্রথম যন্ত্র হিসেবে ধরা হয়।[২] এটি আবিষ্কৃত হয় খ্রিষ্টপূর্ব ২৪০০ সালে ব্যাবিলনে। অ্যাবাকাস ফ্রেমে সাজানো গুটির স্থান পরিবর্তন করে গণনা করার যন্ত্র। খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০/৫০০ অব্দে মিশরে বা চীনে গণনা যন্ত্র হিসেবে অ্যাবাকাস তৈরি হয়।

১৬১৬ সালে স্কটল্যান্ডের গণিতবিদ জন নেপিয়ার গণনার কাজে ছাপা বা দাগ কাটাকাটি অথবা দন্ড ব্যবহার করেন। এসব দন্ড জন নেপিয়ার (John Napier) এর অস্থি নামে পরিচিত। ১৬৪২ সালে ১৯ বছর বয়স্ক ফরাসি বিজ্ঞানী ব্লেইজ প্যাসকেল সর্বপ্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন। তিনি দাঁতযুক্ত চাকা বা গিয়ারের সাহায্যে যোগ বিয়োগ করার পদ্ধতি চালু করেন। ১৬৭১ সালের জার্মান গণিতবিদ গটফ্রাইড ভন লিবনিজ প্যাসকেলের যন্ত্রের ভিত্তিতে চাকা ও দন্ড ব্যবহার করে গুণ ও ভাগের ক্ষমতাসম্পন্ন আরো উন্নত যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর তৈরি করেন। তিনি যন্ত্রটির নাম দেন রিকোনিং যন্ত্র (Rechoning Mechine)। পরে ১৮২০ সালে টমাস ডি কোমার রিকোনিং যন্ত্রের পরিমার্জন করে লিবনিজের যন্ত্রকে জনপ্রিয় করে তোলেন।

 

আমাদের সমস্ত দৈনন্দিন জীবনের ক্রিয়াকলাপ যেমন অনলাইন সেবা এবং পণ্যের উপর ভিত্তি করে হয়। কম্পিউটার দুই বছর আগেও আমাদের জীবন পরিবর্তন করেছে এখনও পরিবর্তন করছে।  দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার ব্যবহার করা অতি প্রয়োজনীয়

নতুন কম্পিউটার কেনার পাশাপাশি, ব্যবহৃত কম্পিউটার কেনা এখন আর অস্বাভাবিক কিছুই নয়। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পাওয়া যায় বলে পুরো বিশ্বেই এখন ব্যবহৃত কম্পিউটারের প্রচুর চাহিদা বিদ্যমান।

তাই আমাদের দৈনিক জীবনে বা যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে কম্পিউটার এর সাহা্য্যে কাজ করার জন্য  দরকার একটি ভালো মানের কম্পিউটার।।।। এজন্য ব্যবহৃত কম্পিউটার কিনতে হলে কিছু প্রধান বিষয় মাথায় রাখতে হয়। চলুন জেনে নেয়া যাক ৭টি উপায়, যার মাধ্যমে ব্যবহৃত কম্পিউটার কেনার ক্ষেত্রে আপনার খরচকৃত অর্থ অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে।

বিশ্বস্ত বা পরিচিত কারো থেকে কিনুন

কোনো কম্পিউটার বিক্রেতাই হোক কিংবা সাধারণ কেউ, চেষ্টা করুন পরিচিত কারো থেকেই ক্রয় করতে। কোনো বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবহৃত কম্পিউটার কিনলে ক্রয়কৃত কম্পিউটারে কোনো সমস্যা হলে আপনি তাদের দ্বারস্থ হতে পারবেন।

আর যদি কোনো ব্যক্তি থেকে ব্যবহৃত কম্পিউটার ক্রয় করতে চান, তবে এটা নিশ্চিন্ত হয়ে নিন যে তাদেরকে দরকারে পাওয়া যাবে কি না। তবে ব্যক্তির চেয়েও কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবহৃত পণ্য ক্রয় করা অধিক সুরক্ষিত। কেননা তারা কখনই চাইবেনা যাতে গ্রাহক মনে মনে তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানসমূহ সবসময় তাদের সম্মান এবং ইতিবাচকতা বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর।

নিজের প্রয়োজন বুঝুন

সব কম্পিউটার একই ধরনের হয়না। একেক ধরনের কম্পিউটার একেক ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরী। ধরুন, আপনি সাধারণত মাইক্রোসফট অফিস এর প্রোগ্রামগুলো ব্যবহার করে থাকেন। সেক্ষেত্রে অধিক দামের গেমিং কম্পিউটার আপনার কোনো কাজে  আসবেনা। আবার ধরুন, আপনি কম্পিউটারে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর কাজ করতে চান। সেক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন অনু্যায়ী কম্পিউটার বেছে নিতে হবে। নতুন হোক কিংবা ব্যবহৃত, কম্পিউটার কেনার আগে সবসময় আগে একটু গবেষণা করা জরুরি যে আপনার প্রয়োজন কতটুকু আর কোনটি আপনার সেই প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম।

মূল্য পার্থক্য যাচাই করুন

ব্যবহৃত কম্পিউটারের মূল্য স্বাভাবিকভাবে একই রকম নতুন কম্পিউটারের তুলনায় কমই হবে- এটা আমাদের সকলেরই জানা। তবে যে কম্পিউটারটি আপনি কিনতে যাচ্ছেন, তার অস্বাভাবিক রকমের মূল্যহ্রাস সন্দেহজনক। কম্পিউটার কেনার আগে অবশ্যই ইন্টারনেট থেকে এর যথাযথ দাম জেনে নিন। এছাড়াও যার কাছ থেকে কিনছেন, তার থেকে জেনে নিতে ভুলবেন না যে সে কম্পিউটারটি কোথা থেকে আনা বা কেনা।

ল্যাপটপ এর ক্ষেত্রে ব্যাটারি লাইফ চেক করুন

কেউ কেউ তাদের ল্যাপটপ এর ব্যাটারি ঠিকমত কাজ না করার দরূণ তাদের ল্যাপটপ বিক্রি করার সিদ্বান্ত নেন। এই ব্যাপারিটি মাথায় রেখে ব্যবহৃত ল্যাপটপ কেনার আগে অবশ্যই এটি যাচাই করে নিন যে উক্ত ল্যাপটপের ব্যাটারি ঠিকমত কাজ করছে কিনা।

সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় মানুষ ল্যাপটপ ব্যবহার করে। সুতরাং আপনি যে ব্যবহৃত ল্যাপটপটি ক্রয় করবেন, তা আপনাকে আশানুরূপ ব্যাটারি ব্যাকাপ দিতে পারবে কিনা,তা নিশ্চিত করা জরুরি।

নিজে চালিয়ে দেখুন

কম্পিউটার হোক বা অন্য যেকোনো ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, কেনার আগে অবশ্যই একবার হলেও নিজে উক্ত পণ্যটি চালিয়ে দেখুন। মাত্র ৩০ মিনিট মত চালালেই আপনি যে পণ্যটি কিনতে যাচ্ছেন, তার সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পেয়ে যাবেন।

রিফান্ড এর জন্য বলুন

আপনি যদি কোনো ব্যাক্তির কাছ থেকে কম্পিউটার ক্রয় করে থাকেন, তবে পরবর্তীতে অর্থ ফেরত চেয়ে পণ্যটি ফিরিয়ে দেয়ার চিন্তা করা বোকামি। আপনি যদি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবহৃত কম্পিউটার কিনে থাকেন, তবে উক্ত প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্রয়কৃত পণ্য রিপ্লেস কিংবা রিফান্ড এর সুবিধা দিচ্ছে কিনা তা দেখে নিতে পারেন।

অভিজ্ঞদের সাহায্য নিন

আমাদের মধ্যে কমবেশি সবারই এমন (অন্তত) একজন বন্ধু থাকে, যে কিনা তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে অভিজ্ঞ হয়ে থাকে। ব্যবহৃত কম্পিউটার কেনার সময় অভিজ্ঞ বন্ধুর সাহায্য নেয়া অনেক কার্যকর। অতএব, ব্যবহৃত কম্পিউটার কেনার সময় আপনার অভিজ্ঞ বন্ধুর সাহায্য নিতেই পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *