মোবাইল ডাটা সাশ্রয়ে কার্যকর কিছু অ্যাপ ও কিছু টিপস

মোবাইল ডাটা সাশ্রয়ে কার্যকর কিছু অ্যাপ ও কিছু টিপস

Information Technology Tips Tips For Life

মোবাইলে ডাটা ব্যবহারের হিসাব রাখা একান্ত জরুরি। এই পোস্টে আমরা এন্ড্রয়েড এবং আইওএস এর জন্য কিছু অ্যাপ সম্পর্কে জানবো, যেসব ব্যবহার করে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারের তথ্য পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ফলে সে অনুযায়ী আপনি আপনার মোবাইল ডেটা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। চলুন শুরু করি।

ডাটা ইউসেজ

এটি একটি নির্ভরযোগ্য ডেটা ব্যবহার ট্র্যাকিং অ্যাপ্লিকেশন যা আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের সাথে আপনার সেট করা লিমিটে সমানভাবে ডাটা ব্যবহারে সাহায্য করে। নিয়মিত ডেটা ট্র্যাকিং এবং সতর্কতা প্রদান ছাড়াও অ্যাপটিতে এমন একটি ফিচার রয়েছে যা আপনার নিয়মিত ব্যবহারের ভিত্তিতে ডেটা সীমাতে পৌঁছানোর আগে ওয়ার্নিং প্রদান করে। যদি আপনি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ডেটা ব্যবহার করেন তবে অ্যাপটি আপনাকে অবিলম্বে সতর্ক করবে। এছাড়াও অ্যাপটিতে থাকছে উইজেট ব্যবহারের সুবিধা যার মাধ্যমে হোমস্ক্রিন থেকে খুব সহজেই আপনার ডাটা ব্যবহারের তথ্যের উপর নজর রাখতে পারবেন।

মাই ডাটা ম্যানেজার

মাই ডাটা ম্যানেজার অ্যাপটি ফ্রি এবং অ্যাডবিহীন ডাটা ইউসেজ ট্র্যাকার, যা আপনার মোবাইল, ওয়াইফাই এবং রোমিং ডাটা ব্যবহারের হিসাব রাখে। আপনি চাইলে ডাটা লিমিট এবং মেয়াদ সেট করে দিতে পারবেন। অ্যাপটি সেই হিসাবে ডাটা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য আপনাকে যথাসময়ে প্রদান করবে।

এর পাশাপাশি একটি সামারি ট্যাব থাকছে, যেখানে আপনার ব্যবহৃত ডাটার সমস্ত তথ্য জমা থাকবে। শেয়ারড বা ফ্যামিলি প্ল্যান এর মত সুবিধাও থাকছে এতে, যা ব্যবহার করে পুরো পরিবারের ইন্টারনেট ব্যবহার এর গতিবিধির উপর নজর রাখা ও ডাটা নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধাও থাকছে।

ট্র‍্যাফিক মনিটর ৩জি/৪জি/৫জি স্পিড

ট্র‍্যাফিক মনিটর অ্যাপটি ডাটা ইউসেজ ট্র্যাকার এর পাশাপাশি একটি অসাধারণ স্পিড ও কভারেজ ট্র‍্যাকিং অ্যাপ এর কাজও করে।  এই অ্যাপটিতেও ডেটা প্ল্যান পিরিয়ড এবং লিমিট নির্দিষ্ট করে দেয়ার সু্যোগ থাকছে। সাথে আছে রোমিং ডাটা ইউসেজ ট্র‍্যাক করার আলাদা অপশন, যা অবাক করার মত তথ্য প্রদান করে।

এছাড়াও অ্যাপটিতে স্পিড টেস্ট ফিচার থাকছে, যার মাধ্যমে আপনার ইন্টারনেট এর গতি চেক করতে পারবেন। অ্যাপটিতে কভারেজ ম্যাপ নামে একটি ফিচার রয়েছে, যা দ্বারা আপনার এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারনেট এর গতি সম্পর্কেও জানতে পারবেন খুব সহজেই।

গ্লাসওয়্যার ডাটা ইউসেজ মনিটর

গ্লাসওয়্যার ডেস্কটপ এর জন্য একটি জনপ্রিয় নেটওয়ার্ক ইউসেজ মনিটর অ্যাপ। অ্যাপটির একটি এন্ড্রয়েড ভার্সনও রয়েছে। ডেস্কটপ ভার্সনের মতই এন্ড্রয়েড অ্যাপেও থাকছে নেটওয়ার্ক ইউসেজ ট্র‍্যাকিং এবং অ্যাপ মনিটরিং এর সুবিধা। কোন অ্যাপগুলো মোবাইল ডাটা বা ওয়াইফাই ব্যবহার করছে, তা দেখার পাশাপাশি ডাটা লিমিট অতিক্রম করার আগে সতর্কতাও প্রদান করে অ্যাপটি।

এছাড়াও রিয়াল-টাইম ডাটা ইউসেজ দেখার সুবিধাও থাকছে গ্লাসওয়্যার ডাটা ইউসেজ মনিটর অ্যাপটিতে। যখনই কোনো নতুন অ্যাপ ডাটা ব্যবহার করে, তখন অ্যাপটি আপনাকে জানিয়ে দিবে। পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপ, যেমন ফেসবুক এর জন্য যদি আপনি আনলিমিটেড ডাটা প্ল্যান কিনে থাকেন সেক্ষেত্রে ফেসবুক অ্যাপটিকে ডাটা মনিটরিংয়ের বাইরেও রাখতে পারবেন

ডাটামেন নেক্সট

ডাটামেন নেক্সট অ্যাপটি শুধুমাত্র আইওএস এর জন্য। এটি খুবই সাধারণ মিনিমালিস্টিক ইন্টারফেস এর একটি অ্যাপ, যা ডাটা ইউসেজ মনিটরিং অ্যাপ হিসেবে ভালো কাজ করে। এছাড়াও অ্যাপটিতে প্রিডিকশন ফিচার থাকছে, যা আপনার বর্তমান ডাটা ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে ডাটা ব্যবহারের সীমা কখন অতিক্রম করবে তা আপনাকে জানিয়ে দেয়।

এটি একটি পেইড অ্যাপ, এটি কেনার জন্য আপনাকে ০.৯৯ মার্কিন ডলার গুণতে হবে। তবে এই অ্যাপটির ৪.৫ রেটিংস ই অ্যাপটির কার্যকরিতার প্রমাণ দেয়।

উল্লিখিত অ্যাপগুলোর মধ্যে সবই মোটামুটি একইভাবে কাজ করে। এর মধ্যে ডাটা ইউসেজ মনিটরিং এর জন্য যেকোনো একটি অ্যাপ আপনি ব্যবহার করতে পারেন।

আসুন আরও জেনেই ডাটা সাশ্রয়ের আরও কিছু উপায়ঃ

অনেকেই এরকম অভিযোগ করে থাকেন যে, স্মার্টফোনে মোবাইল ডেটা চালু করলেই একাউন্টের ব্যালেন্স হাওয়া হয়ে যায়। যারা বিভিন্ন ছোটখাটো মেগাবাইট প্যাকেজ কিনে চালান, তারা অনেক সময় এমবি ব্যালেন্স হারিয়ে মূল একাউন্ট থেকে টাকাপয়সা কেটে জিরো ব্যালেন্সের মুখোমুখি হন শুধুমাত্র ফোনের লাগামহীন মোবাইল ডেটা ব্যবহারের কারণে। কিন্তু, কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করলে সহজেই এরকম পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে পারেন। চলুন জেনে নিই অত্যন্ত কার্যকর কিছু টিপস যা আপনার মোবাইল ডেটা সাশ্রয় করবে।

ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ্লিকেশন রিফ্রেশ বন্ধ করুন

যখন ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপস চালু থাকে, অ্যাপগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর কাজ করতেই থাকে। এমন সব অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে ফেসবুক, ইমেইল, আবহাওয়া ইত্যাদি অনেক বেশি ডেটা খরচ করে। ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ বন্ধ করতে নিচের উপায় অনুসরণ করুন।

আইফোনে ওপেন করুনঃ Settings > General > Background App Refresh

অ্যান্ড্রয়েডের জন্য ওপেন করুনঃ Settings > Data Usage > Restrict App Background Data (আলাদা আলাদা ব্র্যান্ডের এন্ড্রয়েড ফোনে এই মেন্যুর ভিন্ন ভিন্ন লোকেশন থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটার অপশনটি খুঁজে বের করুন)।

উপরের মেন্যুগুলোতে গিয়ে আপনি চাইলে সকল অ্যাপ বা যেকোনো নির্দিষ্ট অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা ব্যবহার বন্ধ করতে পারেন।

অ্যাপ্লিকেশন অটো আপডেট বন্ধ করুন

ফোনের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন প্রায়ই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হয়। অটো অ্যাপ আপডেট বন্ধ করতে নিচের নিয়ম অনুসরণ করুন।

আইফোনের জন্যঃ Settings > iTunes & App Stores > Use Cellular Data অপশন বন্ধ করুন।

অ্যান্ড্রয়েডের জন্যঃ গুগল প্লে স্টোর ওপেন করে এর মেন্যুতে Settings > General > Auto Update Apps > Auto Update Apps over Wi-Fi Only নির্বাচন করুন। অথবা অটো আপডেট বন্ধও করতে পারেন এখান থেকে।

Wi-Fi Assist বন্ধ করুন

Wi-Fi Assist চালু থাকলে ওয়াইফাই সিগন্যাল খারাপ হলে ফোন আপনার মোবাইল ডাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহার করতে শুরু করে। এই নেটওয়ার্ক সুইচিং বন্ধ করুন।

আইফোনের জন্যঃ Settings> Cellular অপশন থেকে Wi-Fi Assist বন্ধ করুন।

এন্ড্রয়েডে WLAN অর্থাৎ ওয়াইফাই সেটিংসে গিয়ে Switch between data and WLAN অপশন বন্ধ করুন। এর ফলে আপনার ফোনে যখন ওয়াইফাই এবং মোবাইল ডেটা উভয় সংযুক্ত থাকবে, তখন ফোন শুধুমাত্র ওয়াইফাই ব্যবহার করবে। যদিও আপনি চাইলে মোবাইল ডেটা বন্ধ করে ওয়াইফাই চালু রাখতে পারেন।

ক্লাউড স্টোরেজ সিনক্রোনাইজেশন নিয়ন্ত্রণ করুন

গুগল ড্রাইভ, ওয়ানড্রাইভ, আইক্লাউড ড্রাইভ, গুগল ফটোস প্রভৃতি ক্লাউড স্টোরেজ সেবা ব্যবহারের জন্য শুধুমাত্র ওয়াইফাই নির্দিষ্ট করে দিন। অন্যথায় মোবাইল ডেটা ব্যবহার করে এসব সার্ভিস সিনক্রোনাইজ করলে প্রচুর মোবাইল ডেটা খরচ হবে।

কাজ শেষে সেলুলার ডাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করুন

কাজের পর মোবাইল ডাটা বন্ধ করে রাখতে পারেন। জরুরি কোনো ইমেইল বা এ ধরনের নোটিফিকেশনের অপেক্ষায় না থাকলে মোবাইল ডেটা বন্ধ রাখুন। এতে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপসও ডাটা ব্যবহার করতে পারবেনা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *